ব্লগ প্লাটফর্মে স্বাধীনতা - নীতি বনাম নিয়ন্ত্রণ
লিখেছেন ইনসিডেন্টাল ব্লগার | মঙ্গলবার, 6 মে 2008 5:21 pm13 টি মন্তব্য
[ ''আমার ব্লগ'' ওয়েবমাস্টার উত্থাপিত নীতিমালাবিষয়ক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ]
অধিক সরলীকরণের তোড়ে, একটু মনে হয় গুলিয়ে ফেলছি সবকিছু। ‘নীতি’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণ’ দু’টো ভিন্ন জিনিস । প্রথমটা সবসময়ই ইতিবাচক, অন্তত এতদিন তা-ই জানতাম । এটুকু তো মনে হয় বলা যেতেই পারে যে–‘নীতি’ থাকাটা অন্তত আর যা-ই হোক নেতিবাচক কিছু না। পরবর্তী বিষয়—অর্থাৎ ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও থাকতে পারে ; এবং সেই বিতর্ক, আমার বিশ্বাস—এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়, প্রয়োগ-পদ্ধতি নিয়ে ।
আসুন প্রথমে নীতির বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখি। উদাহরণ দিলে হয়তো কিছুটা পরিস্কার হবে—স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকবাহিনী এবং রাজাকাররা যা করেছিল , তাকে আমরা ‘অন্যায়’ কিংবা ‘অপরাধ’ বলি কেন ? বলি এই কারণে যে এমনকি যুদ্ধেরও নিয়ম নীতি থাকে এবং ওরা সেই সব লঙ্ঘন করেছিল—যার ফলশ্রুতি গণহত্যা , ধর্ষন ইত্যাদি । এখন নীতির অনুপস্থিতিই (‘নীতিহীনতা’) যদি কারো পছন্দনীয় হয় , তাহলে তার কি যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবী তোলার কোনো অধিকার বা যৌক্তিকতা থাকে? [ জানি, কেউ কেউ যুক্তি দেখাবেন – যুদ্ধে আবার নিয়ম কি , প্রেমে আবার নীতি কি, ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু এতদিনে আমরা অন্তত এটুকু বুঝে ফেলেছি যে সে সব হল সুযোগসন্ধানীদের ফন্দিফিকির ]।
কোনো নীতি না থাকার বিষয়টা শুনতে যেমনই শোনাক না কেন, অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি—বাস্তবে নীতিহীনতা বা নীতি নিরপেক্ষতার সুযোগ তারাই সাধারণত নিয়ে থাকে যাদের নিজেদের কোন নীতির বালাই নেই। কিংবা থেকে থাকলেও তাদের সেই নীতি এমনই নীতি, যার মূলকথা হল গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, অযৌক্তিকতা, গণবিমূখতা; এবং যার নিশ্চিত ফলশ্রুতি—যুদ্ধাপরাধ, নারী ধর্ষন, শিশুহত্যা, ধর্মের নামে হাজারো মানুষকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া। এসব (সুযোগসন্ধানী) মানুষেরা গজিয়ে ওঠে নীতিবিমূখ এবং নীতিহীন পরিবেশে। আমার বিশ্বাস, ব্লগ প্লাটফর্মের বিকাশ ঘটাতে আর যা-ই লাগুক, নীতিহীন পরিবেশের অন্তত দরকার নেই।
এবার আসা যাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টাতে। ওয়েবমাস্টার সবাইকে বলছেন—“grow up, man” । সদুপদেশ। আমাদের কারোই সম্ভবত এতে দ্বিমত নেই। এটা তো ঠিকই যে আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের অধিকার, মানসন্মান রক্ষা করতে পারা, অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই । কিন্ত ঢালাও নিয়ন্ত্রণহীনতার তো কিছু সমস্যাও আছে, আছে না?
প্রথমতঃ ব্লগিং এর মত একটা সৃজনশীল কর্মকান্ডের জন্য মুক্তস্বাধীন পরিবেশ যেমন দরকার, তেমন দরকার স্বাস্থ্যকর এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের । Clean environment বলতে আমি অবশ্যই sanitary environment বোঝাতে চাচ্ছিনা, যেমনটা থাকে হাসপাতালে। আমরা কেউ চাইনা ‘আমার ব্লগ’ থেকে ডেটল কিংবা ডিসিনফেকট্যান্ট এর গন্ধ বের হোক। সেটা হলে এই ব্লগের সাথে আর পাঁচটা ইনসিকিউরড বাংলা ব্লগ সাইটের কোনো পার্থক্য থাকেনা। কিন্তু এই সাইট যেন যথেচ্ছাচার এবং খিস্তিখেউড়ের স্বর্গভূমি না হয়ে যায়, সেই ভারসাম্যও তো রক্ষা করা প্রয়োজন। তা না করতে পারলে শুধু তারাই শেষমেষ টিকে থাকবে এই ব্লগে, যারা সমান তালে খিস্তি খেউড় চালিয়ে যেতে পারে। অন্যদের তখন মানে মানে কেটে পড়তে হবে। সত্যি, ‘আমার ব্লগে’ আমরা কি শুধু তাদের নিয়েই থাকতে চাই ? ভুল বুঝবেন না, মাঝে মাঝে খিস্তি করতে আমাদের সবারই একটু আধটু ইচ্ছে করে, (যা দিনকাল পড়েছে এই সব মঈন-ফাকরুদ্দিনদের বদৌলতে) ! কিন্তু সবসময় কি আর এসব ভাল লাগে? মনে পড়ে, উদ্যোক্তারা প্রথমদিককার এক পোস্টে লেখকদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বিচিত্র সব ধরণের পোস্টের আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন। কিন্তু ‘আমার ব্লগের’ পরিবেশ একবার নষ্ট হয়ে গেলে, আমাদের ভয়, সেই অমিত সম্ভাবনাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবার আগে।
দ্বিতীয়তঃ ব্লগারদের সৃজনশীলতা এবং শক্তি যদি bully কিংবা মানবতাবিরোধীদের সাথে খুচরো ঝগড়াঝাটিতেই ব্যয় করতে হয়, তাহলে অন্যান্য আরো বেশী উৎপাদনশীল কাজ তারা করবে কখন ? অতীতে অন্যান্য গ্রুপগুলোতে এমনটি হয়েছে, এখানেও যে সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবেনা, সেকথা হলফ করে বলবার মনে হয় কোন সুযোগ নেই। কেউ কেউ হয়তো এসব ঝগড়াঝাটি কনফ্রন্টেশনে এক ধরণের আনন্দ বা kick পান, কিন্তু বেশীর ভাগের কাছেই এসব stressful এবং শক্তি ও সময়ের অপচয়—যার আসলেই কোনো প্রয়োজন নেই, এবং যা খুব সহজেই নিরোধ করা যায়। একটা উদাহরণ দেবার লোভ সামলাতে পারছিনা—বুদ্ধিমান কোন মানুষ কি সেই মাঠে rugby খেলতে চাইবেন, যে মাঠে কোন রেফারি নেই, অথবা থাকলেও যিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন যে তিনি কোন অবস্থাতেই নাক গলাবেন না, এমনকি খেলোয়াড়রা একজন আরেকজনের হাড়গোড় ভেঙ্গে ফেললেও না ?
তৃতীয়তঃ আমার কোনো সন্দেহ নেই যে এখানকার বেশির ভাগ ব্লগারই নিজের ভালমন্দ বোঝেন এবং প্রয়োজন হলে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম যে কোন আক্রমণের মুখে। কিন্তু আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না—নিয়ন্ত্রণ কিংবা নিয়মের নিরাপত্তা শক্তিমানের জন্য নয়। এর মূল উদ্দেশ্য অপেক্ষাকৃত দুর্বলের প্রতিরক্ষা। সহজ কথায়—দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন। সুতরাং, তা নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন না থাকলে মুক্তচিন্তার এই ক্ষেত্রটি শেষ পর্যন্ত এক ডারউইনীয় জঙ্গলে পরিণত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কি তা-ই চাই? পৃথিবীর ইতিহাসে—সমষ্টির মঙ্গলের জন্য ব্যক্তির ‘অবাধ’ স্বাধীনতা এজন্যই কখনো কখনো কিছুটা বিসর্জন দিতে হয়েছে, যাতে করে প্রত্যেকে বিকশিত হতে পারে। এটা ভুললে চলবে না—liberty বা স্বাধীনতা মানে ‘যা খুশী করার license না’—অনেক বড় বড় মানুষ এসব বিষয়ে হাজার হাজার পৃষ্ঠা লিখে গেছেন, আমি আর কি লিখবো।
চাই ভারসাম্য
একধরণের ভারসাম্য চাই সবকিছুর মধ্যে। কিছু নীতি যেমন দরকার (উদাহরণঃ মানবাধিকার, সমতা, ন্যায়বিচার, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধ, মানবতার নীতি), তেমনি দরকার কিছু মূলনীতি বা পলিসি (যেমনঃ দুষ্টের দমন, শিষ্টের বিকাশ, গঠনমূলক বিতর্ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ), সেরকমই প্রয়োজন হাতের পাঁচ হিসেবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যা দরকারের সময় প্রয়োগ করা যেতে পারে অবস্থার প্রতিকারে। সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন ভারসাম্যের। পান থেকে চুন খসলেই ‘গেল গেল সব গেল’ চিৎকারসহ মডারেটরদের লম্ফঝম্প যেমন কাম্য না, তেমনি চোখের সামনে পরিবেশ দূষণমূলক অন্যায় দেখেও না দেখার ভাণ করে যাওয়া, এবং অন্যায়ের প্রতিকার না করার ধনুর্ভঙ্গ পণ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকাও কোন কাজের কথা না। দু’টোই সমান ক্ষতিকর। কারণ এর যে কোন একটাও যদি চলতে থাকে বাধাহীনভাবে—তাহলে একদিন হয়তো আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করবো—যাদের জন্য এই ব্লগ, তারাই আর কেউ নেই আশেপাশে, নিরবে সরে গেছেন, চলে গেছেন অন্য কোথাও। নিশ্চয়ই আমরা কেউ তা চাইনা।
সুতরাং এভাবে বললে কেমন হয় ?
কোন নীতি নেই, তার মানে এ তল্লাট নীতিহীন স্বেচ্ছাচারীতার জন্য নয়। আমরা নীতিতে বিশ্বাসী, চিন্তাহীন নিয়ন্ত্রণে নয়। আমাদের নীতি—মত প্রকাশের পক্ষে দাঁড়াবার, চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ না করার। নীতি সমতার, মানবতার, মানবাধিকারের। নীতি—একের নীতি অন্যের ওপর চাপিয়ে না দেবার; প্রত্যেককে যার যার মত বাড়তে দেবার। নীতি শান্তিপ্রিয়তার। আমরা শান্তিপ্রিয়; তবে চিরন্তন শ্মশানের শান্তির প্রতিজ্ঞা নিয়ে কেউ আসিনি এখানে। প্রয়োজনে আমরা গর্জে উঠতে জানি, ইতিহাস সাক্ষী। এখানে ততটুকুই নিয়ন্ত্রণ, যতটুকু হলে বাঁধ দেয়া নদী হয়ে ওঠে শক্তির আধার; যতটুকু হলে আগুন কিংবা গতিময়তা হয়ে ওঠে দরকারি হাতিয়ার।
ধৈর্যসহ দীর্ঘ এই পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভুল বানানগুলোর জন্য ক্ষমা করবেন।
এখানে আপাতত কোন ন্যানী’র দরকার নেই। কি বলেন?
ট্যাগঃ









So far, its the best writeup posted @amarblog.
ধন্যবাদ
আচ্ছা বুঝলাম।
ধন্যবাদ।
“দ্বিতীয়তঃ ব্লগারদের সৃজনশীলতা এবং শক্তি যদি bully কিংবা মানবতাবিরোধীদের সাথে খুচরো ঝগড়াঝাটিতেই ব্যয় করতে হয়, তাহলে অন্যান্য আরো বেশী উৎপাদনশীল কাজ তারা করবে কখন ?”
ঠিক সামহোয়ার অনেক ভালো ব্লগাররে নষ্ট করছে।
লেখায় যুক্তি আছে। আপনাকে চিনি?
খুব মনকষ্টে আছি, ভাই। প্রায় সবারই প্রোফাইল ছবি আছে, আমার নাই। জানিনা কিভাবে বসাতে হয়। একটু বুদ্ধি দেবেন কেউ ?
রাশেদ বলেছেন জুন 16th, 2008 12:39 am:
আমার মেনু>প্রোফাইল> একদম নীচে ছবি আপলোড করার সিস্টেম আছে।
ধন্যবাদ।
ওয়েবমাস্টার ভাই, ব্লগে ঢুকতে পারতেছিনা। রিসেট লিন্ক কাজ করতেছেনা, খালি এই মেসেজটা দেখায়:
”দুঃখিত, এই ‘কি’টি কার্যকর নয়।”
কি করি?
রাশেদ বলেছেন জুন 16th, 2008 12:57 am:
কিসের কথা কন? বুঝি নাই। ওয়েবমাশটার ব্যস্ত আছে। আমারে বলেন, দেখি কেউ জানে নাকি কিছু।
লগ ইন করতে পারছিনা। পাসওয়ার্ড রিসেট হচ্ছেনা কোন কারণে।
ওয়েবমাস্টার বলেছেন জুন 16th, 2008 1:09 am:
আপনার মেইল চেক করুন। পাস রিসেট করে দেয়া হয়েছে।
পেয়েছি, অনেক ধন্যবাদ।
ট্র্যাকব্যাকঃ
মন্তব্য করুন!
আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে মন্তব্য করার জন্য!
সাম্প্রতিক মন্তব্য
আমার মেনু
রেজিস্ট্রেশনপাসওয়ার্ড ভুলে গিয়েছি
সার্চ করুন
অনলাইন ব্লগার
264 জন অতিথি
সদস্যরা হলেনঃ
নীড় সন্ধানী
মইনউদ্দিন১০২
ashik
পুরানপাপী
kaustuv.som
সুশান্ত
আরিফ জেবতিক
গেদু চাচা
জ্যাকি
মলিকিউল
আফলাতুন
অমিত আহমেদ
মাসুম
ctg
Moshiur Rahman Masud
বিবর্তন
বাউল
zahid000
fugitive
ফারিহান মাহমুদ
হাসান রায়হান
reza30
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
paragjafar
চোর
প্রিয় সাইট